কাজে সফল হব (পাঠ ৩৬)

ষষ্ঠ শ্রেণি (মাধ্যমিক) - কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা - আমাদের প্রয়োজনীয় কাজ | NCTB BOOK
468

সুষ্ঠুভাবে কাজ করার ওপর নির্ভর করে কাজের সফলতা। নিয়ম মেনে মনোযোগসহ কোনো কাজ করলে সে কাজে সফলতা আসবেই। যদি তুমি তোমার কাজের ক্ষেত্রে কিছু উপায় অনুসরণ কর তাহলে তুমি সহজেই সফল হতে পারবে।

আত্মবিশ্বাস ও আগ্রহের সাথে কাজ করা : যে কাজটি তুমি করতে চাও সেকাজে আগ্রহ ও মনে সাহস রাখতে হবে এবং এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে কাজটি আমি করতে পারব। তাহলে দেখবে কাজটি অনেক সহজ হয়ে গেছে।

সময়ের কাজ সময়ে করা : যে কাজ যখন করার কথা, তখনি করে ফেল। আজকের কাজ পরে করব- এমন চিন্তা করে কাজ ফেলে রাখা যাবে না। তাতে কাজ জমে যাবে ও কাজের চাপ বেড়ে যাবে। পরে সব কাজ একসাথে করতে চাইলে কাজে ভুল হবে, কাজ শেষ হবে না এবং এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে।

সঠিক উপায়ে কাজ করা : কাজটি যেভাবে করলে সহজ হবে এবং ভালো ফল আসবে সেভাবে করবে। কীভাবে কাজটি করবে তা আগেই ঠিক করে নাও। অনেক সময় অনেক সহজ কাজ ভুল উপায়ে করার কারণে কাজটি শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে ও কাজে ব্যর্থ হতে হয়। যেমন মিতু তার নিজের কাপড় নিজে পরিষ্কার করার জন্য এক বালতি পানিতে এক চামচ গুড়া সাবান মিশিয়ে কাপড়গুলো ভিজিয়ে দিল। ভেজানোর পরেই সেগুলো ধুয়ে সে দেখতে পেলো কাপড়ের ময়লা রয়েই গেছে। মা এই কাপড় দেখে মিতুকে কাপড় ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি বুঝিয়ে দিলেন কাপড়ের পরিমাণ অনুসারে কতটুকু পানিতে কী পরিমাণ গুড়া সাবান মিশাতে হবে, ভিজিয়ে কতক্ষণ রাখতে হবে ইত্যাদি।

ধাপে ধাপে কাজ করা: যেকোনো ধরনের কাজ সহজে করার উপায় হচ্ছে কাজটিকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করে নেয়া। পরে ধাপে ধাপে কাজগুলো শেষ করা। এতে কাজে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে কম এবং কাজটি দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে। যেমন- বাবা রবির জন্য একটি বুক সেলফ কিনে আনলেন। রবির বইগুলো মেঝেতে স্তূপাকারে ছিল। সবগুলো বই রবি একবারে সেলফের কাছে নিতে পারছে না। তখন বাবা বললেন, তুমি বইগুলো ভাগে ভাগে সেলফের কাছে নিয়ে যাও এবং সাজাও। বাবার কথামতো কাজ করে রবি দেখতে পেল কাজটি খুব দ্রুত ও সুন্দরভাবে শেষ হলো।

অন্যকে দিয়ে না করানো : যে কাজটি তুমি করতে পারো সে কাজ অন্যকে দিয়ে করাবে না। অন্যে কাজ করলে সে কাজ তোমার পছন্দ নাও হতে পারে এবং কাজটি দুই-তিনবার করা লাগতে পারে। তাছাড়া অন্য কেউ তোমার জামা-কাপড় ধুলে নষ্ট করে ফেলতে পারে।

নতুন ও জটিল কাজের ক্ষেত্রে বড় ও অভিজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া: নতুন ও জটিল কাজের ক্ষেত্রে ওই কাজে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নিলে সহজেই কাজে সফলতা লাভ করা যায়। কারণ যারা আমাদের থেকে বয়সে বড়ো এবং কাজে অভিজ্ঞ তারা জানেন কাজ করার সঠিক ও সহজ উপায় কোনটি।

এজন্য তোমরা পরিবারে বা আশেপাশে বড়ো যারা আছেন, তাদের কাছে এ বিষয়ে পরামর্শ নিতে পারো। কাজের মাঝে মাঝে তারা জানিয়ে দিবেন তুমি কাজটি ঠিকমত করছ কি-না। যেমন: তুমি যদি প্রথম নিজে
চা বানাতে যাও এখন কীভাবে চুলা জালাতে হয়, ফুটন্ত পানি কেটলি থেকে কীভাবে ঢালতে হয়, কতটুকু চাপাতা, চিনি, দুধ মিশ্রিত করতে হয় তা যদি তুমি তোমার মা বা বাড়ির বড়োদের কাছ থেকে জেনে নাও তবে তোমার তৈরি চা সুস্বাদু হবে এবং দুর্ঘটনা থেকেও তুমি রক্ষা পাবে।

কাজ করার সময় লজ্জা ও হীনম্মন্যতায় না ভোগা : যে কাজই করো না কেন তাতে লজ্জা করা যাবে না এবং কাজটি আমি করতে পারব কি পারব না অথবা করব কি করব না- এরকম দোটানায় থাকা যাবে না। দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে হবে। মনে রাখবে, কাজে কোনো লজ্জা নেই, আছে সম্মান ও গৌরব।

দলগতভাবে কাজ করা : কিছু কাজ আছে যা এককভাবে না করে পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে দলগতভাবে করলে কাজটি ভালোভাবে সম্পন্ন হয়।

চেষ্টা করা এবং হতাশ না হওয়া : একবারে কোনো কাজ শেষ না করতে পারলে সে কাজটি আবার করার চেষ্টা কর। আমি ব্যর্থ হয়ে গেছি এমন মনে করা যাবে না। কোনো ধরনের হতাশা বা সংশয়কে মনে স্থান দেয়া যাবে না। এতে মনের জোর কমে যায়, কাজে সফল হওয়া যায় না।

দলগত কাজ: নিজের যে কোনো একটি কাজের কথা ভাবো। এই পাঠ থেকে তুমি যা শিখেছো তার পরিপ্রেক্ষিতে-

তুমি তোমার ওই কাজে কীভাবে সফল হতে পারবে তা নিয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরি করো। প্রয়োজনে শিক্ষকের / বন্ধুর সহায়তা নাও

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...